নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র তরফে সামনে এলো এক বড় সিদ্ধান্ত। রবিবার ঘোষিত হলো উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটের প্রার্থী—বর্তমানে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সি.পি. রাধাকৃষ্ণন। দক্ষিণ ভারতের অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিসম্পন্ন এই নেতা এবার জাতীয় রাজনীতির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার দৌড়ে।
রাধাকৃষ্ণনের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল খুব অল্প বয়সে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি আরএসএস (RSS)-এর সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিজেকে তিনি প্রকাশ্যে বারবার "গর্বিত আরএসএস কর্মী" বলে অভিহিত করেছেন। তামিলনাড়ু বিজেপির দীর্ঘদিনের এক নিষ্ঠাবান, সৎ এবং ফলপ্রসূ নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত।
১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালে কোয়েম্বাটুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে পরপর দু’বার জয়লাভ করেন তিনি। বিশেষত ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল রেকর্ডস্বরূপ, যা ঘটেছিল কোয়েম্বাটুর বিস্ফোরণের ঠিক অল্প কিছুদিন পর—এক বিস্ফোরণ যা অভিযোগ অনুযায়ী তৎকালীন বিজেপি নেতা এল.কে. আডবানিকে লক্ষ্য করেই ঘটানো হয়েছিল। এই বিজয়ের মাধ্যমে রাজ্যে বিজেপির পায়ের তলার জমি অনেকটাই শক্ত করেছিলেন রাধাকৃষ্ণন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন। বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী সদস্য, তামিলনাড়ু বিজেপি সভাপতি (২০০৪–২০০৭), এবং পরে ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ঝাড়খণ্ডের রাজভবনে তাঁর সময়কাল বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। সেখানকার বিভিন্ন আদিবাসী অঞ্চলে সফর করে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করেন। আদিবাসীদের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেন। তিনি প্রকাশ্যে মত দেন—‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’-এর আওতা থেকে আদিবাসীদের বাদ রাখা উচিত।
তবে তাঁর রাজ্যপালত্বের মেয়াদও বিতর্কমুক্ত ছিল না। হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত শুরু হলে বিরোধীদের একাংশ রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে রাধাকৃষ্ণন সাফ জানিয়েছিলেন—দোষী প্রমাণিত হলে যে কোনও ব্যক্তিই আইনের শাস্তি ভোগ করবেন।
তামিলনাড়ুতেও রাধাকৃষ্ণনের নাম একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্টালিনের "সনাতন ধর্ম নির্মূল" মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “উদয়নিধি এখনও শিশুসম, আর যারা সনাতন ধর্ম ধ্বংস করার চেষ্টা করবে, তারাই ধ্বংস হবে।”
২০২৪ সালের জুলাই মাসে তিনি মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র অল্প সময়ের মধ্যেই এনডিএ তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেছে—যা রাজনৈতিক মহলে বড় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ভারত থেকে একজন অভিজ্ঞ নেতাকে সামনে আনা বিজেপি-এনডিএ শিবিরের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা।
আগামী দিনে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। তবে একথা স্পষ্ট—সি.পি. রাধাকৃষ্ণনের প্রার্থীতা এনডিএ-কে যেমন অভিজ্ঞ ও সৎ ভাবমূর্তির একজন প্রতিনিধি দিচ্ছে, তেমনই দক্ষিণ ভারতের সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।
Follow the GramBartaPlus channel on WhatsApp: https://whatsapp.com/channel/0029VbAvV5JFnSzD3zBZ423L