ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানীদের মৃত্যু: কাকতালীয় নাকি চক্রান্তের পরিণতি?

GramBarta Plus
By -
0


নয়াদিল্লি – ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানীদের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে ফের। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ১১ জন পরমাণু বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু – কেউ ‘দুর্ঘটনায়’, কেউ আত্মহত্যা বলে দাবি করা হয়েছে, আবার অনেকের মৃত্যুর কারণ আজও অজানা!

অনেকেরই প্রশ্ন: এ কি নিছক কাকতালীয়? নাকি এর পেছনে আছে কোনো আন্তর্জাতিক চক্রান্ত?

‘মিসাইল ম্যান’ আব্দুল কালামের দেশ, যেখানে পরমাণু শক্তিকে আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেই দেশেই কি পরমাণু বিজ্ঞানীরা এতটা অসুরক্ষিত?

শুধু এই কয়েক বছরেই নয়, ভারতীয় পরমাণু গবেষণার ইতিহাস ঘাঁটলেই চোখে পড়ে একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যু। ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্যার হোমি জে. ভাবা, যাঁকে ভারতীয় পরমাণু কর্মসূচির জনক বলা হয়, ১৯৬৬ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। অনেকেরই ধারণা, সেটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

সরকার কী করছে?
এই সমস্ত মৃত্যুর তদন্ত কাগজে-কলমে শুরু হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনও সুনির্দিষ্ট ফলাফল সামনে আসেনি। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এতদিন ধরে এই বিজ্ঞানীরা যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীরা কেন গবেষণার পথে আসবেন?

ISRO ও DRDO-র বিজ্ঞানীরা বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন—কখনও ভুল মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, আবার কখনও মারধর বা বিষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এদেশে যখন তরুণ মেধাবীরা বাইরে চলে যাচ্ছে 'ব্রেন ড্রেন'-এর জোয়ারে, তখন দেশের ভিতরে থাকা বিজ্ঞানীদেরও যদি এইরকম মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়, তাহলে ভারতের পরমাণু ও মহাকাশ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়াবে?

এখনই সময় প্রশ্ন তোলার—

কেন এতগুলি মৃত্যু রহস্যে ঢাকা?

কারা এর পিছনে?

সরকারের নীরবতা কেন?


পরমাণু বিজ্ঞানীরা দেশের সম্পদ। তাঁদের রক্ষা করা মানে দেশের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা। আর যদি এই চক্রান্তের জাল ক্রমশ বিস্তৃত হয়, তাহলে একদিন হয়তো আমরা সকলেই চরম মূল্য দিতে বাধ্য হব।
Tags:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!