ঘটনা: চীনের “বিশ্বের সর্ববৃহৎ” বাঁধ প্রকল্প – একটি জলবোমার হুমকি?

GramBarta Plus
By -
0
আরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু জানিয়েছেন, টিবেটের ইয়ারলুং জুসাঙ্গপো নদীতে (যা ভারতের ভিতরে সিয়াং ও ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত) যে বিশাল বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে, তা “টিকলতা জলবোমা” হিসেবে কাজ করতে পারে—একটি এক্সিস্টেনশিয়াল হুমকি, সামরিক হুমকি থেকেও বড় ।

চীন এই $137 বিলিয়ন বিনিয়োগে পাঁচ বছরে 60,000 MW ক্ষমতার বাঁধ তৈরি করছে, যা থ্রি গর্জেস থেকে তিনগুণ বড় ।

খস্কর বলেছেন, চীন আন্তর্জাতিক জল চুক্তির সদস্য নয়; তাই হঠাৎ পানি ছাড়লে, সিয়াং অঞ্চল, বিশেষত আদি উপজাতির জীবনধারা ও কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে—ফলে “জলবোমা” হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে ।

ভারতের আশা ছিল, চীনের বাঁধ প্রকল্প যদি আন্তর্জাতিক জল শেয়ারিং চুক্তির আওতায় হতো, তবে সেটা উপকারী হতে পারতো ।



---

🇮🇳 ভারতের প্রতিক্রিয়া: সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট

বিজেপির কীরেন রিজিজু আন্দোলন করেছেন 11 GW ক্ষমতার সিয়াং আপার বাঁধ প্রকল্পের দিকে, যা “পানির সমস্যা মোকাবেলায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক” ।

এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ভারতের পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশ-সহ অন্যান্য নিম্নস্থল এলাকা সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় আদি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও জীবিকার প্রভাব নিয়ে স্থানীয় প্রতিরোধ ও অভিযোগের মধ্যেও কেন্দ্র এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে ।



---

🌍 জিওপলিটিক্যাল ও পরিবেশগত প্রেক্ষাপট

বিষয় বিবরণ

বাঁধের অবস্থান ও আকৃতি টিবেটের 'গ্রেট বেন্ড'-এ অবস্থিত ভবিষ্যৎ বাঁধ, যেখানে নদী ভারতে প্রবেশ করে ।
টেকটনিক ঝুঁকি ভূমিকম্প প্রবণ–জায়গায়, বড় প্রকৌশল প্রকল্পের জন্য তীব্র পরিবেশগত ও ভূ-প্রাকৃতিক বিপদ ।
নদী কূটনীতির অবস্থা চীন এসব বাঁধ নিয়ে তথ্য শেয়ার করে না; ভারতের কাছে কোনো আন্তর্জাতিক জলচুক্তি না থাকাতে, বৈধ বাধ্যবাধকতা নেই বরং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে ।



---

🧭 সামগ্রিক মূল্যায়ন (বাংলা ভাষায়)

পেমা খান্ডু বলেন, “সামরিক হুমকি তো ছিলই, কিন্তু এই পানি-হামলা তার থেকেও ভয়ংকর”—কারণ তা সরাসরি মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে ওলট-পালট করে দিতে পারে । ভারতের বক্তব্যও স্পষ্ট: চীনকে কেবল কূটনৈতিকভাবে হাত না–ছাড়া হলে, ভারতকে নিজস্ব প্রতিরোধ-ব্যবস্থা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে, যেটি হচ্ছে অপরকাষ্ঠে আটকে গেলে ভারতের বাঁধ ।

এখন পরিস্থিতি স্পষ্ট: এটি আর একটি আঞ্চলিক প্রকল্প নয়, বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপক প্রেক্ষিত।


---

📌 প্রয়োজনে করণীয়

ভারতের উচিত “হাইড্রো-কূটনীতি” আরো অগ্রসর করা—চীন ও বাংলাদেশসহ সম্মিলিত জলব্যবস্থাপন স্বাক্ষর চাওয়া।

উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে জল-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় বাঁধ দ্রুত সম্পূর্ণ করা ও স্থানীয় চুক্তি চূড়ান্ত করা অপরিহার্য।

আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করে, সামাজিক সচেতনতা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!