📰 খবর সংক্ষিপ্তসার
ছয় বছরের এক আফগানী মেয়েকে ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের সঙ্গে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে আফগানিস্তানের হেলমন্ড প্রদেশে। আমু.টিভি অনুসারে, মেয়েটির বাবার পক্ষ থেকে অর্থের বিনিময়ে এই বিবাহ সম্পন্ন হয় মর্হজ জেলার একটি অনুষ্ঠানে ।
এই চিন্তাশীল ও অমানবিক পরিস্থিতিতে, একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তালেবান “মর্মাহত” হয় এবং বরবকে মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না দিয়ে বলে মেয়ের বয়স কম — তাই তাকে কেবল তার শ্বাশ বাড়িতে নেওয়া যাবে নয় বছরের পর ।
তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিবাহের কার্যকরতা এখনও বজায় আছে — এবং তালেবানের হস্তক্ষেপ শুধুমাত্র “বিলম্ব” করে দিয়েছে, পুরোপুরি বাতিল করেনি ।
এই ঘটনা প্রকটভাবে তুলে ধরছে আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহ–জনিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ছবি। পরিসংখ্যান দেখায়, তালেবান শাসনের পর থেকেই শিশু বিবাহের হার বেড়েছে — লাশে মোড়া নারী‐শিক্ষা নিষেধাজ্ঞার কারণে ২৫% বেশি বাল্যবিবাহ, এবং শিশুহজমে ৪৫% বৃদ্ধি হয়েছে, তথ্য দিয়েছে ইউএন উইমেন ও ইউনিসেফ ।
---
🔍 বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া
তালেবানের ভূমিকা: তারা নিজেকে “মর্মাহত” দাবি করলেও, বাস্তবে তাদের প্রতিক্রিয়া মেয়েটির স্বাভাবিক উন্নয়ন বা স্বার্থে নয় — বরং বয়স পূরণের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রথায় সাময়িক বিলম্ব মাত্র।
মানবাধিকার সংকট: মহিলাদের শিক্ষা ও কর্মজীবন বন্ধ করে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: এমন ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে আদালতের (ICC) মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বরূপ হিসেবে ধরা হচ্ছে — জানুয়ারি ২০২৫-এ তালেবানের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তাদের নারীদের প্রতি আচরণের কারণে ।
---
❗ দ্রুত বিষয়
মেয়েটির বয়স: বর্তমানে ৬ বছর।
তালেবানের নির্দেশ: “নবম জন্মদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন” — তবে এটি বিচার বহির্ভূত সিদ্ধান্ত, যা মেয়েটির নিজস্ব ইচ্ছার বিষয় নয়।
বিবাহবদ্ধ অবস্থা: এখনও বিবাহ কার্যকর, শুধু সম্পৃক্ত থাকার সিদ্ধান্ত স্থগিত মাত্র।
---
🚨 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আশা
বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চিত্র সামাজিক আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক নিন্দা–বিক্ষোভের কারণ সরকারে পরিণত হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত বোর্ডগুলো আফগানিস্তানে এই ধরনের প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করতে জানতে চায়। তবে বাস্তবে তালেবান শাসনে নারীর স্বায়ত্তশাসন ও বাল্যবিবাহের প্রশ্নে কী সময় লাগবে, তা অনিশ্চিত।