রাজ্য বিধানসভায় আজ উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে। সেই পরিবর্তনের অর্থ হলো বিজেপিকে হটানো। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিধানসভায় বিজেপিকে একেবারে শূন্যে নামিয়ে দেবেন।
এর পাল্টা জবাব দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ফের দাবি করেন, ভবানীপুরেই মুখ্যমন্ত্রীকে হারাবেন। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস তিন অঙ্কে পৌঁছতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, সরকার ‘স্বৈরাচারী’ পথে চলছে এবং তার পতন অনিবার্য।
অধিবেশনে গোলমালের জেরে বিজেপির পাঁচ বিধায়ক—শঙ্কর ঘোষ, বঙ্কিম ঘোষ, অশোক দিন্দা, মিহির গোস্বামী ও অগ্নিমিত্রা পল—সাসপেন্ড হন। ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন শঙ্কর ঘোষ ও বঙ্কিম ঘোষ। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
শুভেন্দু অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় তাঁকে সভাকক্ষের বাইরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিজেপি বিধায়করা যেভাবে লড়াই চালাচ্ছেন তাতে প্রমাণ হয় বাংলার মানুষ প্রকৃত প্রতিনিধিদের বিধানসভায় পাঠিয়েছেন।
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-বিরোধী প্রচারে মুসলিম তোষণ করছেন এবং বাংলাদেশি রোহিঙ্গাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চোর বলা মানহানিকর। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু ঘোষণা করেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাবেন।
শেষে তিনি বলেন, “মমতা নন্দীগ্রামে হেরেছেন। ভবানীপুরেও হারবেন। ওঁর ভাইপোর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস তিন অঙ্ক পেরোতে পারবে না।”