কেন্দ্রীয় রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (CSR&TI), কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদ, বস্ত্র মন্ত্রক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রেশম চাষ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে “মেরা রেশম মেরা অভিমান (MRMA)” প্রকল্পের অধীনে মঙ্গলবার (২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৫) নবনির্মিত পাঁচগ্রাম কোকুন বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল — “উন্নত বাজার রিটার্নের জন্য কোকুনগুলির গ্রেডিং এবং মান মূল্যায়ন।” এদিন দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৭০ জনেরও বেশি রিলার (রেশমগুটি থেকে সুতা প্রস্তুতকারী) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কৃষি, সেচ ও ক্ষুদ্র সেচ কর্মধক্ষ্যা ওজিফা বেগম। কর্মসূচি পরিচালনা করেন CSR&TI-র পাঁচজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী— ড. কে. রাহুল, ড. ভি. বিজয়, অরুণ কুমার, ড. প্লাবনি রায় এবং ড. বিক্রম কে.ভি। প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা ড. এস. গান্ধী ডসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রেশম চাষিদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রেশম চাষ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বপন মাইতি (উপ-অধিকর্তা, মুর্শিদাবাদ), কাজল মুখার্জী (বিস্তার আধিকারিক) এবং তপন মণ্ডল (উন্নয়ন কর্মকর্তা) কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং রিলারদের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনায় যোগ দেন।
কর্মসূচির অংশ হিসাবে কোকুনের মান মূল্যায়ন ও বাণিজ্যিক সংগ্রহের ওপর একটি বাংলা পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে কৃষক ও রিলাররা সহজ ভাষায় গুণমান-ভিত্তিক বিপণন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পান। অরুণ কুমার, বৈজ্ঞানিক-বি, কোকুন গ্রেডিং মান, মানের পরামিতি এবং রেশম পোকার রিলিং-এর প্রয়োজনীয় দিকগুলি নিয়ে একটি প্রযুক্তিগত অধিবেশন উপস্থাপন করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষভাবে ফলপ্রসূ হয়।
এছাড়া অনুষ্ঠিত হয় একটি ইন্টারেক্টিভ সেশন, যেখানে কৃষক, রিলার ও কর্মকর্তারা পাঁচগ্রাম কোকুন বাজারকে শক্তিশালীকরণ, ন্যায্য ক্রয় পদ্ধতি নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নানা পথ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে অংশগ্রহণকারীরা সর্বসম্মতিক্রমে জানান— মানভিত্তিক কোকুন ব্যবসার মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাঁচগ্রাম কোকুন বাজারকে স্বচ্ছ বাণিজ্য ও কৃষক ক্ষমতায়নের এক আদর্শ মডেল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে সকলে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ফলশ্রুতিতে এদিনের কর্মসূচি শুধু কৃষকদের জন্য ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, বরং মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্পের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্যও এক ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হলো।