রাজ্যের বিধানসভা ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিধানসভা ভবনে শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই অস্ত্রধারী নিরাপত্তা মোতায়েন করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনও মন্ত্রী, বিধায়ক বা সরকারি আধিকারিকের নিরাপত্তাকর্মী—সেটি সরকারি হোক বা CISF–এর—অস্ত্র নিয়ে বিধানসভা ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন না।
আদালতের নির্দেশ
বিধানসভা ভবনের ভেতরে অস্ত্র বহন কেবল মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের জন্য বৈধ।
অন্যান্য কোনও ব্যক্তিগত বা সরকারি নিরাপত্তারক্ষী অস্ত্রসহ ভবনে প্রবেশ করলে তা হবে নিয়মভঙ্গ।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তকে “জনগণের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে অপরিহার্য” বলে মন্তব্য করেছে আদালত।
সাম্প্রতিক সময়ে বিধানসভা ভবনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। একাধিক বিধায়ক ও মন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মীরা অস্ত্রসহ ভেতরে প্রবেশ করায়, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধীরা দাবি করেছিল যে, এটি “গণতান্ত্রিক পরিবেশে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে”। এরপরেই একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় এবং আদালত হস্তক্ষেপ করে।
তৃণমূল কংগ্রেস: দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “হাইকোর্টের এই নির্দেশ আমরা মেনে চলব। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
বিজেপি: রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বিজেপি নেতারা বলেন, “এটি রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার ফল। আদালত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতো।”
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া: বহু সাধারণ নাগরিক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, “বিধানসভা হলো জনগণের গৃহ। সেখানে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রপ্রদর্শন গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট করে।”
এই রায় কার্যকর হলে বিধানসভা ভবনের ভেতরে একাধিক নিরাপত্তা স্তর বজায় থাকবে, তবে সশস্ত্র বাহিনী কেবল মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এর ফলে ভবনে রাজনৈতিক আলোচনা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও নিরাপদ এবং অশঙ্কাহীন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।