বিহারের ভাগলপুর জেলায় ঘটে গেল এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। সুলতানগঞ্জ থানার গঙ্গানিয়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রবণ কুমার এবং তার স্ত্রী পূজার সংসার চলছিল দীর্ঘ ১০ বছর ধরে। চারটি সন্তানের মা পূজা হঠাৎই স্বামীকে জানান—তিনি আসলে পাশের গ্রামের পুরনো প্রেমিক ছোটুকে আজও ভালোবাসেন এবং তার সঙ্গেই জীবন কাটাতে চান।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—স্বামী শ্রবণ এতে একটুও বাধা দেননি। বরং স্ত্রীর সুখকেই জীবনের আসল উদ্দেশ্য মনে করে তিনি এক অবাক করা সিদ্ধান্ত নিলেন। পঞ্চায়েত প্রধান, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে শ্রবণ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ছোটুর সঙ্গে। তিনি ঘোষণা করলেন—"তুমি সুখে থেকো, আমি আমাদের চার সন্তানের দায়িত্ব নেব।"
এই ঘটনায় উপস্থিত সকলেই হতবাক। অনেকে শ্রবণের এহেন ত্যাগকে এক মহৎ ভালোবাসার নজির বলছেন। এমনকি কেউ কেউ বলছেন, বাস্তবে যেন ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর গল্প নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
পূজা জানিয়েছেন, ১৬ বছর বয়স থেকেই ছোটুর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পারিবারিক কারণে তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। আজ বহু বছর পর তিনি নিজের সত্যিকারের ভালোবাসার কাছে ফিরে যেতে চান। স্বামীর সম্মতি ও আশীর্বাদ পেয়েই তিনি নতুন জীবনে পা রাখলেন।
এই ঘটনার খবর এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রবণের ত্যাগ ও উদারতার কাহিনি মানুষকে ভাবাচ্ছে—ভালোবাসা কি সত্যিই শুধু দখল নয়, বরং অন্যের সুখে নিজের ত্যাগ স্বীকার করার নাম?