সম্পর্ক ভাঙার জেরেই ঈশিতাকে খুন! অভিযুক্ত প্রেমিক দেবরাজকে খুঁজছে পুলিশ

GramBarta Plus
By -
0
কৃষ্ণনগরের মানিকপাড়ায় ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। সোমবার দুপুরে বাড়ির ভেতরে ঢুকে কলেজছাত্রী ঈশিতা মল্লিককে গুলি করে খুন করেছে অভিযুক্ত প্রেমিক দেবরাজ সিং। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়।

কে এই দেবরাজ?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবরাজ আদতে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের বাসিন্দা। তার বাবা এনডিআরএফ কর্মী। চাকরির সূত্রে পরিবার কয়েক বছর আগে উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরের কাঁপা-চাকলা পঞ্চায়েতের ধরমপুর কলোনিতে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করে। দেবরাজ বাবা-মা ও এক বোনের সঙ্গে সেখানে বসবাস করত।

বাবা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী হওয়ার সুবাদে দেবরাজ ভর্তি হয় কাঁচরাপাড়ার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে। সেই স্কুলেই পরিচয় হয় কৃষ্ণনগরের মানিকপাড়ার বাসিন্দা ঈশিতা মল্লিকের সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় দু’জনে। গত বছর তারা একসঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে।

সম্পর্কে ভাঙন

স্থানীয় সূত্রে খবর, দেবরাজ বিগত এক বছর ধরে পড়াশোনার নাম করে কার্যত কোনও পড়াশোনা করছিল না। অন্যদিকে, ঈশিতা কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনায় মন দেয়। এর জেরেই তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। অভিযোগ, কিছুদিন ধরেই ঈশিতা এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। এ নিয়ে দেবরাজের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হচ্ছিল।

খুনের দিন

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, সোমবার হঠাৎই কৃষ্ণনগরে ঈশিতাদের বাড়িতে পৌঁছে যায় দেবরাজ। বাড়িতে ঢুকেই সোজা দোতলায় চলে যায়। সেখানে ঈশিতা একা ঘরে বসেছিল। কোনও কথাবার্তা না বলেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় সে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ঈশিতার। খুনের পরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

তারপর কী?

ঘটনার পর থেকেই দেবরাজ ও তার পরিবারের খোঁজ মিলছে না। বীজপুরে তাদের ভাড়া বাড়ি বর্তমানে তালাবদ্ধ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই পরিবারের সঙ্গে এলাকার মানুষজনের খুব একটা মেলামেশা ছিল না। দেবরাজকে তারা দেশরাজ নামেও চিনতেন।

তদন্তে নয়া প্রশ্ন

পুলিশ খতিয়ে দেখছে—

এত সহজে দেবরাজ কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র পেল?

এক তরুণের মনে এত হিংসা ও ক্ষোভ তৈরি হল কীভাবে?

এই ঘটনায় কোনও ভিনরাজ্যের যোগ রয়েছে কি না?


এখনও পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর সমগ্র এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এক তরুণীর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে উঠছে নানান প্রশ্ন।
Tags:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!