২০২৬ সালের মার্চের মধ্যেই দেশকে ‘মাওবাদী মুক্ত’ করার লক্ষ্যে সময় গুনছে কেন্দ্র। সেই প্রেক্ষিতেই দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই। শুক্রবারের ওই বৈঠকে মূলত মাওবাদী দমন অভিযান, উপদ্রুত এলাকার উন্নয়ন এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সরকারি সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, শাহ গত বছর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারত থেকে মাওবাদী সন্ত্রাস নির্মূল করা হবে। সেই লক্ষ্য পূরণে এখন কেন্দ্র ও রাজ্য একসাথে উদ্যোগী।
২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশের ১০৬টি জেলাকে 'মাওবাদী প্রভাবিত' হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এর মধ্যে ৩৫টি জেলা ছিল 'অতি প্রভাবিত'। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই সম্প্রতি সংসদে জানান, ২০১৩ সালে দেশের ১২৬টি জেলা মাওবাদী উপদ্রুত ছিল, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের হিসেবে কমে এসেছে মাত্র ১৮-তে।
এর মধ্যে ছত্তীসগঢ়ের বস্তার ডিভিশনের ছ'টি জেলা এখনো মাওবাদী কার্যকলাপে সক্রিয়। তবে রাজ্য প্রশাসন দাবি করেছে, এই জেলাগুলিতেই সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
মাওবাদী দমনে রাজ্য পুলিশের একাধিক কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ফলপ্রসূ হয়েছে। ২০২০ সালে চালু হওয়া ‘লোন ভারাতু’ (গোন্ড ভাষায় যার অর্থ ‘তোমার বাড়ি ফিরে যাও’) পুনর্বাসন প্রকল্পের পাশাপাশি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে অবুঝমাঢ় অঞ্চলে চালু হয়েছে যৌথবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান।
ফলাফল কী?
এখন পর্যন্ত ৪৪৫ জন মাওবাদী নিহত
১,৫৫৪ জনকে গ্রেফতার
১,৫৮৮ জন আত্মসমর্পণ
এর পাশাপাশি গ্রামবাসীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য চালু হয়েছে ‘নিয়া নার নিয়া পুলিশ’ (আমাদের গ্রাম, আমাদের পুলিশ) নামের এক অনন্য উদ্যোগ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী সাইয়ের বৈঠক মূলত আগামী সাত মাসে মাওবাদী নির্মূলের চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের এই যুগ্ম উদ্যোগে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে দেশ।