কখনও যিনি দেশের উচ্চতম আদালতের বিচারপতির আসনে বসে কঠোরতম রায় দিতেন, আজ তিনি নিজেই দাঁড়িয়ে আছেন কাঠগড়ায়—দু’হাত পিছমোড়া করে হাতকড়া পরা অবস্থায়। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের এই পরিণতি যেন অনেকের কাছেই এক নির্মম বাস্তবতা। একসময় যাঁকে শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হতো, তিনিই আজ অভিযুক্ত। ২০১০ সালের পর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি, কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পর হাসিনা সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান খায়রুল হক।
এক বছরেরও বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর, অবশেষে ঢাকার ধানমন্ডির বাসা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাত আটটা নাগাদ তাঁকে হাজির করা হয় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে। তখন তাঁর শীর্ণকায় চেহারা, সাদা শার্ট-কালো প্যান্টের উপর পুলিশের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হাতকড়া পরা দৃশ্য আরও বেশি নাড়া দেয় উপস্থিত সবাইকে।
দুই পুলিশকর্মীর সঙ্গে আসামির মতো আদালতে আসেন তিনি। কাঠগড়ায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলে শুনানি। অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিচার ব্যবস্থাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন তিনি, এবং স্বৈরাচারী শাসনকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন।
শুনানির মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মোবাইলের আলোতেই চলে বিচার। শেষে রাত ৯টা নাগাদ তাঁকে কেরানিগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
এই ঘটনা এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুলেছে। বিরোধীরা বলছে, ‘বিচারের নামে প্রহসন নয়, এটা জনরোষের ফল।’ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির এমন পরিণতি ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মত বিশ্লেষকদের।