২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলা রাজনীতি। বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গেও দানা বাঁধছে জল্পনা। বিশেষ করে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ মহলে আশঙ্কা, বাংলাতেও রয়েছে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো ভোটার।
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি বড়সড় মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, “বিহারে যদি ৬০-৭০ লাখ ভুয়ো ভোটার থাকে, তাহলে বাংলায় সেটা ১ থেকে দেড় কোটি হবে। এত ভুয়ো ভোটার থাকলে আমরা কীভাবে জিতব? সঠিক কাউন্টিং হলেই সব ধরা পড়বে।”
🔴 ভুয়ো ভোটারদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
মিঠুনের বক্তব্যে স্পষ্ট—যদি নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা না নেয় এবং এই অনুপ্রবেশকারী ও ভুয়ো ভোটারদের বাদ না দেয়, তাহলে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের উপরই প্রশ্নচিহ্ন উঠবে। তাঁর অভিযোগ, “এই ভুয়ো ভোটই এতদিন তৃণমূলকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে।”
🔵 তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ
তৃণমূল যদিও এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। দলের দাবি, বিজেপি বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি করতে চাইছে এবং বাঙালিদের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ এনে পরিবেশকে উত্তপ্ত করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বলছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর অত্যাচার চলছে।
🗳️ ভোটার তালিকা সংশোধন কতটা জরুরি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিঠুনের মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, এর মধ্যে নির্বাচনী কৌশলও লুকিয়ে আছে। তিনি বিজেপিকে পরোক্ষভাবে বার্তা দিলেন—সতর্ক না হলে বাংলায় জেতা কঠিন। সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দিকেও চোখ রাখতে বললেন, যাতে সঠিকভাবে যাচাই করে অবৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়।
📌 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
এই বক্তব্য রাজ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যখন ভোটের আগে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিজেপি সুর চড়াতে শুরু করেছে, তখন মিঠুনের মন্তব্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হল।