পূর্ব মেদিনীপুর:
পাঁশকুড়ার ‘চিপস কাণ্ড’-এর পর ফের ছাত্র মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুরে। কাঁথি থানার পিছাবনী এলাকায় নবম শ্রেণির ছাত্র সূর্য মান্নার রহস্যমৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা চরমে। আত্মহত্যার আগে সুইসাইড নোটে লেখা—"বাবা, আমি ভুল করিনি। ওই মেয়েটাকে আমি চিনি না।"
বয়স মাত্র ১৫। স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সূর্য মান্না। অভিযোগ, স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করার মিথ্যা অভিযোগে স্কুলে ও তার বাইরে তাকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়।
সূর্যের বাবা রবীন্দ্রনাথ মান্না জানান, "আমার ছেলেকে বিনা প্রমাণে লোকজন ধরে অপমান করে। আমি ঘটনাস্থলে গেলে, আমার সামনেই ছেলেকে মারধর করা হয়। রাতে বারবার বলছিল—‘আমি কিছু করিনি বাবা’। পরদিন সকালে দেখি, ঘরের দোতলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে আমার ছেলে।"
সূর্যের ঘর থেকে একাধিক সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রত্যেকটিতেই একই বার্তা— “আমি মেয়েটিকে চিনি না। বাবা, তুমি অপমানিত হলে। আমি ভুল করিনি।”
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি তুলছেন, যারা প্রকাশ্যে এক নাবালককে হেনস্থা করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে, মেয়েটির পরিবারের বক্তব্য, “সূর্যকে কে বা কারা ঘিরে ধরেছিল, জানি না। ঘটনাস্থলে আমরা ছিলাম না।”
পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে ৩০২ ধারাতেও মামলা হতে পারে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনাকে অনেকে পাঁশকুড়ার কৃষ্ণেন্দু দাসের ‘চিপস কাণ্ড’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। সেই ঘটনায়ও প্রমাণ ছাড়াই মারধর ও অপমানের জেরে ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল।
ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং পুলিশের ভূমিকাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন—
সত্যিই কি আজকের সমাজে কোনও প্রমাণ ছাড়াই একজন নাবালককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া যায়?
#JusticeForSurjo #StudentSuicide #KathiIncident #PashkuraChipscase #বাংলারশিক্ষায়সঙ্কট #SocietyOnTrial #grambartaplus