📍 বেঙ্গালুরু | ২ আগস্ট ২০২৫
বেঙ্গালুরুর দক্ষিণে কাগ্গালিপুরা রোড সংলগ্ন এক নির্জন জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা থেকে উদ্ধার হল এক কিশোরের আধপোড়া দেহ। মৃত কিশোরের নাম নিশ্চিথ এ, বয়স মাত্র ১৩। সে স্থানীয় ক্রাইস্ট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ঘটনার পরেই শহর জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া এবং উদ্বেগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার বিকেল ৫টা নাগাদ টিউশনে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল নিশ্চিথ। সন্ধে পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় চিন্তায় পড়ে পরিবার। নিশ্চিথের বাবা জয়চন্দ্র আচিত, যিনি একটি বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক, ছেলের টিউশনের শিক্ষককে ফোন করেন এবং জানতে পারেন, সে ঠিক সময়েই টিউশন থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।
সন্ধ্যার পর খোঁজাখুঁজির সময় নিশ্চিথের সাইকেল পাওয়া যায় কাগ্গালিপুরা রোডের একটি পার্কের কাছে। এরপরই পরিবারের কাছে ফোন আসে—অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় নিশ্চিথকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে ছাড়াতে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।
ঘটনার তদন্তে নামে হুলিমাভু থানার পুলিশ। অপহরণ ও নিখোঁজ মামলা দায়ের করে শুরু হয় ফোন ট্র্যাকিং এবং এলাকা চিরুনি তল্লাশি। বৃহস্পতিবার সকালে কাগ্গালিপুরা রোডের ধারে একটি নির্জন জায়গা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে নিশ্চিথের দগ্ধ মৃতদেহ। ফরেনসিক দল এবং ডগ স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পোশাক দেখে মৃতদেহ যে নিশ্চিথের, তা শনাক্ত করা যায়।
পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে শনাক্ত করে দুই অভিযুক্তকে—গুরুমূর্তি এবং গোপালকৃষ্ণ। গুরুমূর্তি আগে নিশ্চিথের বাড়িতে অতিরিক্ত ড্রাইভার হিসাবে কাজ করত এবং পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ, গুরুমূর্তিই ছিল গোটা ঘটনার মাস্টারমাইন্ড।
বৃহস্পতিবার রাতে বান্নারঘাটা থানার অন্তর্গত এলাকায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারির সময় অভিযুক্তরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। পুলিশ প্রথমে সতর্কতামূলকভাবে আকাশে গুলি চালায়, কিন্তু তাতে তারা দমানো না গেলে আত্মরক্ষায় পুলিশ ছয় রাউন্ড গুলি চালাতে বাধ্য হয়। অভিযুক্তদের পায়ে গুলি লাগে। এরপর তাদের জয়নগর সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের মূল উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। তদন্তে উঠে আসতে পারে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এদিকে, শহরের এক নামী স্কুলের ছাত্রের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ গোটা শহর। উঠছে একটাই প্রশ্ন—শহরের বুকে শিশুরা আদৌ কতটা নিরাপদ? সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে শহরের অভিভাবক মহল।