কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসি আপাতত স্থগিত, ইয়েমেনে চলেছে মধ্যস্থতা
ইয়েমেনে খুনের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামীকাল ১৬ জুলাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়েছে। সূত্র বলছে, ইয়েমেনের প্রখ্যাত সুফি পণ্ডিত শেখ হাবিব উমরের হস্তক্ষেপেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার থেকে শেখ উমর ইয়েমেন সরকারের শীর্ষ আধিকারিক ও নিহত তালাল আব্দো মাহদির পরিবারের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালান। আজ মঙ্গলবারও তালালের ভাই এবং সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির উপস্থিতিতে মধ্যস্থতা বৈঠক হয়। আলোচনায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ (দিয়া) বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—নিমিশাকে যে জেলে রাখা হয়েছে, তা হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন সানা এলাকায়। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরকারের সিদ্ধান্ত মানবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কেন ফাঁসির মুখে নিমিশা প্রিয়া?
কেরলের পালাক্কড় জেলার বাসিন্দা নিমিশা প্রিয়া একজন নার্স হিসেবে ২০০৮ সাল থেকে ইয়েমেনে কাজ করতেন। ২০১৫ সালে ক্লিনিক খোলার উদ্দেশ্যে ইয়েমেনি নাগরিক তালাল মাহদির সঙ্গে অংশীদার হন তিনি। অভিযোগ, পরে মাহদি তাঁকে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেন, মাদক সেবনে বাধ্য করেন এবং পাসপোর্ট কেড়ে নেন। আইনি পরিচয়ে তাঁকে ‘স্ত্রী’ হিসাবে দেখানোয় প্রশাসনিক সাহায্যও পাননি নিমিশা।
২০১৭ সালে, ওই নিপীড়নের অবসান ঘটাতে মাহদিকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে হত্যা করেন তিনি। এরপর সহকর্মী হানান-এর সহায়তায় দেহ গোপন করেন। পালাতে গিয়ে ধরা পড়েন এবং ২০১৮ সালে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
তাঁর মা প্রেমা কুমারী বহুবার "দিয়া" দিয়ে মুক্তির চেষ্টা করেছেন। এমনকি সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আপিলও খারিজ হয়ে গেছে। গত বছরের শেষে প্রেসিডেন্ট নিজে মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন দেন। তবে শেষ মুহূর্তে আবার আশার আলো দেখা দিয়েছে।