আরামবাগে নৃশংস নির্যাতন কাণ্ড: সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধুর ফাঁদে দুই বোন, গ্রেফতার ৩ অভিযুক্ত
আরামবাগ: সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব, তারপরে ঘুরতে যাওয়ার ছলে ভয়ঙ্কর ফাঁদ। দুই যুবতীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তোলপাড় আরামবাগ। অভিযুক্ত চার যুবকের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। পলাতক একজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
নির্যাতিতাদের পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে কেনাকাটার জন্য বাড়ি থেকে বেরোয় আরামবাগের দুই বোন। গৌরহাটি মোড়ে তাদের দেখা হয় মারুফ উদ্দিন মণ্ডল নামে এক যুবকের সঙ্গে, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের পরিচিত। এরপর তিনি আরও তিন বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রথমে রাজি না হলেও পরে চারচাকা গাড়িতে ওঠে দুই বোন।
রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন পরিবার পুলিসে খবর দেয়। পুলিস মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে বর্ধমানের একলখি এলাকা থেকে দুই নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে। এরপর বাড়ি ফিরে তারা জানায়, গাড়িতে বসেই তাদের জোর করে কিছু খাওয়ানো হয়, এবং এরপর শুরু হয় নৃশংস অত্যাচার। বড় বোনকে গাড়ির মধ্যেই একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং ছোট বোনের উপর চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবার ফের থানায় অভিযোগ দায়ের করে। শুক্রবার রাতে তিন অভিযুক্ত—সেখ সুমন আলি, হাফিজুল মল্লিক ও শেখ ফারুক উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিস। মূল অভিযুক্ত মারুফ উদ্দিন মণ্ডল পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্তদের দাবি, গাড়িতে ওই দুই বোনই লক্ষাধিক টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।